জেনে নিন কি কি খাবার খেলে আপনার সন্তান লম্বা হবে

কি খেলে আপনার সন্তান লম্বা হবে ? জেনে নিন কি কি খাবার খেলে আপনার সন্তান লম্বা হবে !!

স্বাস্থ্য পরামর্শ

 

শুরুতেই বলে রাখি আপনি যদি কোনকিছু পড়ার চাইতে ভিডিও দেখতে বেশি পছন্দ করেন তাহলে এইখানে ক্লিক করে এই লিখাটির হুবহু ভিডিও দেখে নিতে পারেনঃ  কি খেলে আপনার সন্তান লম্বা হবে !!

এখন বিজ্ঞাপনের এই যুগে সকলের মধ্যে, বিশেষ করে বাচ্চার মা-বাবারদের মধ্যে একটা টেনডেনসি রয়েছে যে কিভাবে তার বাচ্চাদেরকে টলার এবং স্ট্রংগার করা যায় । এবং এই মোহে পরে দেখা যায় বিভিন্ন দোকান থেকে মা-বাবারা বিভিন্ন ধরনের কোউটা কিনে আনছেন। বিভিন্ন নাম রয়েছে সেগুলোর নামে আমরা যাচ্ছি না। কিন্তু এগুলো খেলে কি আসলেই বাচ্চারা লম্বা হয় ? আমরা যদি আমাদের দেশের আশেপাশে দেখি যে আমাদের দেশে যারা শ্রমজীবী মানুষ তারা তোএই দামি জিনিস গুলো খেতে পায় না । ধরেন যারা শ্রমজীবি রিক্সা চালায় বা অন্য প্রফেশনে আছে তারা সবাই কি বেটে ? কিংবা ধরুন জাপান বা চীনে মানুষগুলো তাদের তো অনেক টাকা আছে, তাদের জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই ড্রিংক্স গুলো খেয়ে লম্বা হয়ে যেতে পারত ,অন্তত তাদের ফুটবল টিমকেতো খাইয়ে লম্বা করতে পারতো, তাইনা? কিন্তু তা হচ্ছে না, মানে তারা তা করতে পারতেছেনা। তাহলে আমরা বুঝতে পারছি এগুলো হচ্ছে বিজ্ঞাপনের ফাঁদ । এগুলো খেলে আসলে লম্বা হয় না ।
তাহলে বাচ্চারা লম্বা হয় কিসে ? চলুন ভিডিওর সামনের দিকে যাই, তাহলেই বুজতে পারবেন।

লম্বা হওয়ার জন্য আসলে বয়স অনুযায়ী আলাদা আলাদা কিছু ফ্যাক্টর কাজ করে। যেমন শিশুর জন্মের প্রথম পাঁচ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন খাবারের উপর বাচ্চার খাটো বা লম্বা হওয়াট নির্ভর করে ।
সুতরাং প্রথম পাঁচ বছরে বাচ্চাকে প্রপারলি খাবার খাওয়াতে হবে, সেই খাবার গুলো কি এই বিজ্ঞাপনের কৌটাগুলো? আসলে তা কিন্তু নয় । আসলে বাচ্চাকে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে ।

সেই পুষ্টিকর খাবার হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শর্করা জাতীয় খাবার, যেমন -ভাত, রুটি। তারপর রয়েছে প্রোটিন যুক্ত খাবার যেমন, মাছ ,মাংস ,ডিম । আবার রয়েছে ডাল যাকে আমরা বলি প্রাণিজ প্রোটিন।
আরো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি। পাশা-পাশি আরো রয়েছে হাই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ দুধ। দুধের ব্যাপারটি হচ্ছে আমরা যদি একটি ঘরকে চিন্তা করি তার পেইন্টের মতো।
অনেকে শুধু দুধ খাওয়াতে চান । অনেক মা-বাবাই আছে আমাদের কাছে আসে যে বাচ্চাকে তিন বেলা চার বেলা দুধ খাওয়ায়।
আমি তাদেরকে বলি, দুধ হচ্ছে একটা দামী পেইন্টের মত, ধরেন আপনি বাজার থেকে খুবই ভাল ও দামি ১টা পেইন্ট নিয়ে আসলেন, কিন্তু আপনার বারি হচ্ছে বেড়ার, তাহলে কি
সেই পেইন্ট তেমন ভাল কাজে দিবে। একটা বিল্ডিং এর প্রধান উপকরণ হচ্ছে ইট , বালি ,সিমেন্ট। আর আপনার শিশুর ক্ষেত্রে ইট বালি সিমেন্টটা কি ?
এই ইট ,বালি ,সিমেন্ট হচ্ছে ভাত, মাছ ,মাংস ,সবজি, ডাল ইত্যাদি । সুতরাং বাচ্চাকে বাত, মাছ, মাংস, সবজি ,ডাল এইসব খাওয়াবেন, পাশা-পাশি ক্যালসিয়ামের জন্য,
শরীর বৃদ্ধির জন্য দিনে একবার অবশ্যই দুধ খাওয়াবেন। দুধ দিনে ১বার খাওয়ালেই আমরা মএন করি যথেষ্ট। তবে খুব প্রয়োজন মনে হলে মাজে মাজে দিনে ২বার খাওয়ানো যেতে পারে।

এরপর আসি যে আগে একটা কথা বলেছিলাম লম্বা হওয়ার বিভিন্ন উপকরণ বা বিভিন্ন ফ্যাক্টর গুলো সম্পর্কে ।
এখানে একটি বড় কারণ কিন্তু হচ্ছে জেনেটিক ফ্যাক্টর অর্থাৎ মা-বাবা যদি খাটো হয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে বাচ্চা কিন্তু খাটো হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
অর্থাৎ খাবার-দাবার দেওয়ার পরও তো সে একটা বয়স পর্যন্ত বাড়বে কিন্তু এরপরে কিন্তু আর দীর্ঘ হবে না ।
সেজন্য আমরা দেখি চীন বা জাপানের লোকেরা খাটো কারণ জেনেটিক্যালি তারা খাটো ।
অন্য কোন খুব ভালো খাবার দিয়ে, খুব উন্নত অন্য কোন জিনিস দিয়ে তাদেরকে কিন্তু লম্বা করা যাবে না। সুতরাং জেনেটিক এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

বিভিন্ন রোগের কারণেও খাটো হতে পারে, যেমন ধরুন রিগ্রেটস ধরনের রোগ আছে, বিভিন্ন হরমোনের সমস্যা রয়েছে , হার্টের সমস্যা রয়েছে, কিডনির সমস্যা রয়েছে । কিন্তু কারো যদি কিডনির সমস্যা হয় সে কিডনি ডাক্তারের কাছে গিয়ে সে চিকিৎসা নিবে । কারো যদি হার্টের সমস্যা হয় সে হার্টের চিকিৎসা নিবে। এগুলোর জন্য কিন্তু সে বিজ্ঞাপনে দেখানো ওই ড্রিংস গুলো খাবেনা। সুতরাং আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের সুষম খাবার দরকার। বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিবেন না,
নিজের সন্তানের ভালোটা নিজেকেই বুঝতে ও শিখতে হবে, ত সম্মানিত ভিওয়ার্স নিজের সন্তানকে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান। কি খাবার খেলে আপনার সন্তান বুদ্ধিমান ও ব্রেইনে হবে তারও একটি ভিডিও দেওয়া আছে এই চ্যানেলে। আপনি চাইলে ডেস্ক্রিপশন বা আই বাটন হতে ক্লিক করে দেখে আসতে পারেন, এবং আপনার সন্তানকে অন্য সবার চাইতে ব্রেইনি করে গড়ে তুলার কৌশল রপ্ত করতে পারেন।

আপনার বাচ্চা লম্বা হওয়া নিয়ে এই ছিলো আমাদের আজকের আলোচনা, আশা করি ভাল লেগেছে।
যদি ভাল লেগে থাকে তাহলে একটি লাইক দিন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *